Saturday, February 9, 2019

জমি কেনার আগে জেনে নিন, জাল দলিল চিনবেন কীভাবে?


যেভাবে জাল দলিল হয়—
সাধারণত দেখা যায়, মালিকানা ছাড়াই মালিকের ছদ্মবেশে দলিলদাতা সেজে বা কাউকে মালিক সাজিয়ে জমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রেজিস্ট্রি করে নেয়। অবশ্য এর সঙ্গে কিছু অসৎ কর্মচারীর যোগাযোগ থাকে। মালিকানা ছাড়াই দলিলদাতা সাজতে পারে।

অনেক সময় দেখা যায়, বণ্টননামার ক্ষেত্রে সহ-শরিকদের অজান্তে ভুয়া বণ্টননামা করে দলিল জাল এজমালি সম্পত্তি অর্থাৎ ভাইবোন মিলে যে সম্পত্তি ভোগ করে থাকে, এক্ষেত্রে দেখা যায়, ভাইয়েরা বোনদের না জানিয়ে দলিল তাদের নামেই করিয়ে থাকে। পরে জমি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বোনেরা দাবি করলে ক্রেতা বিপদে পড়তে পারে।

অনেক সময়, অর্পিত সম্পত্তি বা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি জীবিত দেখিয়ে জাল করা হয়। সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে আদালত থেকে বণ্টননামা সম্পন্ন করা হয় না, সেক্ষেত্রে দলিল জালের সম্ভাবনা বেশি থাকে। গ্রামের লেখাপড়া না জানা লোকদের বিভিন্ন প্রয়োজনে অনেক সময় স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়।

মালিক বিদেশে থাকলে মূল দলিল থেকে জালিয়াতি করা হতে পারে।

ধরা যাক, মালিক দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের বাইরে আছেন। এই সুযোগে তাঁর এক নিকটাত্মীয় হুবহু একটি জাল দলিল তৈরি করে নিলেন এবং এ দলিল তিনি বিক্রয় দলিল হিসেবে দেখালেন। তাঁর ওই আত্মীয় এ দলিল দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণও নিয়েছেন। পরে যখন এ ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারেননি, তখন সার্টিফিকেট মামলা হয় এবং মূল মালিকের বরাবর নোটিশ যায়। এখন ঋণের বোঝা এসে দাঁড়ায় মালিকের ওপর। এদিকে তাঁর নিকটাত্মীয় আত্মগোপন করেন।

জালের রকমফের—
অনেক সময় ঘষামাজা করে এবং ওভাররাইটিং বা কাটাছেঁড়া করেও দলিল জাল করতে পারে। আবার মূল তারিখ ঠিক রেখে দলিলের বিষয়বস্তু জাল করতে পারে।

আপনি যে জমিটি কিনতে যাচ্ছেন সেটার দলিল জাল কি না তা চেনার উপায়—

১. কোনো দলিল নিয়ে সন্দেহ হলে রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষণ করা দলিলের সাথে সাল মিলিয়ে দেখতে হবে। এজন্য নির্দিষ্টভাবে দরখাস্ত করতে হবে। এতে দলিলটির যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের প্রকৃতি অনুযায়ী চারটি রেজিস্ট্রার বা ভলিউমে সংরক্ষিত থাকে।

২. জমির স্বত্ব কী বা মালিকানা যাচাই করতে হবে। বিক্রেতার কাছ থেকে সব দলিল, বিশেষ করে ভায়া দলিল চেয়ে নিতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জানতে হবে সব দলিলের ক্রমিক নম্বর, দলিল নম্বর ঠিক আছে কি না।

৩. সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে জমির মিউটেশন বা নামজারি সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে। নামজারিতে ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কি না, সেটা সুচারুভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদি দেখা যায়, সিএস জরিপের সঙ্গে বিক্রেতার খতিয়ানের কোনো গরমিল আছে, তাহলে বুঝতে হবে, কোনো জটিলতা আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, জরিপ খতিয়ানে জমির পরিমাণ পরবর্তী সময়ে যতবার বিক্রি হয়েছে, তার সঙ্গে জমির পরিমাণ মিল আছে কি না, তা যাচাই করে দেখা। দাগ নম্বর, ঠিকানা এসব ঠিক আছে কি না, এসব যাচাই করতে হবে।

৪. দলিল সম্পাদনের সময় ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের পেছনে কোন ভেন্ডার থেকে স্ট্যাম্প কেনা হয়েছে এবং কার নামে কেনা হয়েছে খেয়াল রাখুন। প্রতিটি স্ট্যাম্পের পেছনে একটি ক্রমিক নম্বর উল্লেখ থাকে। এ নম্বরটি ঠিক আছে কি না, প্রয়োজনে স্ট্যাম্প বিক্রেতার সঙ্গে দেখা করে যাচাই করে নিন।

৫. এক জমির একাধিক মালিকের নামে করা থাকলে ধরে নিতে হবে দলিলটি জাল হতে পারে। এক্ষেত্রে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মূল মালিক কে, তা নির্ণয় করতে হবে।

৬. ভূমি অফিস থেকে বিভিন্ন সিল পরীক্ষা করেও জালিয়াতি নির্ণয় করা যায়।

৭. অনেক সময় স্বাক্ষর জালিয়াতি করে দলিলদাতা বা গ্রহীতার সাজা হয়। এক্ষেত্রে স্বাক্ষর বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া ভূমি অফিস থেকে বিভিন্ন সিল পরীক্ষা করেও জালিয়াতি নির্ণয় করা যায়। খেয়াল রাখতে হবে, অনেক আগের দলিলে আগের চিহ্নিত কিছু সিল ব্যবহারই থাকে। আগের দলিল কিন্তু সিল যদি নতুন হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে, দলিলটি জাল হতে পারে। একই সঙ্গে তারিখটিও ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। দলিল রেজিস্ট্রির তারিখ কোনো সরকারি বন্ধের দিন থাকলে সন্দেহের অবকাশ থাকবে। অনেক সময় অর্পিত সম্পত্তি বা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি জীবিত দেখিয়ে জাল করা হয়।

৮. ভালো করে তারিখ, কাগজ, সিল ইত্যাদি লক্ষ্য করুন। দেখুন কোন অসংলগ্ন চোখে পড়ে কিনা।

৯. জরিপ খতিয়ানে জমির পরিমাণ পরবর্তী সময়ে যতবার বিক্রি হয়েছে, তার সঙ্গে জমির পরিমাণ মিল আছে কি না, তা যাচাই করুন। দাগ নম্বর, ঠিকানা এসব ঠিক আছে কি না, পরীক্ষা করুন।

১০. সম্প্রতি কোনো আমমোক্তারনামা দলিল থাকলে তাতে উভয় পক্ষের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে।

১১. কোনো দান করা জমি হলে দলিলে সম্পাদনের তারিখ দেখে কবে জমিতে গ্রহীতা দখলে গেছে তা যাচাই করতে হবে। দলিলটি রেজিস্ট্রি করা কি না এবং দলিলদাতার সঙ্গে গ্রহীতার সম্পর্ক কী, তা যাচাই করতে হবে।

১২. সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া কোনো বিক্রীত দলিলের দলিল লেখকের নাম ঠিকানা জেনে সরেজমিন কথা বলে নেওয়া দরকার।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

Friday, February 8, 2019

মেডিকেলের গোপন তথ্য!— অসাধু ICU বাণিজ্য!


ICU তে যদি আপনাদের কোনো রোগী থাকে, আর তিনি যদি মারা যান, তাহলে হসপিটাল থেকে লাশ চেক করে আনবেন।

যেভাবে চেক করবেন-
লাশের বাম বগলে কোন ছোট্ট ছিদ্র আছে কিনা, সেটা ভাল করে খেয়াল করুণ, যদি ছিদ্র থাকে, তাহলে প্রশাসনের সাহায্য নিন।

কেননা, আপনারা হয়তো গরুকে ইনজেকশন দেওয়ার সিরিজ দেখে থাকবেন; ঠিক তদ্রূপ একটি কৃত্রিম সিরিজ আছে, যা বাম বগলে ঢুকিয়ে দিলে, মৃত রোগীও মনে হবে জীবিত আছে এবং শ্বাস গ্রহণ করছে।

আপনাদের পরিশ্রমের টাকা, বিনা কারনে কেউ ভোগ করুক, তা আমি চাইনা। একটা সিরিয়াস রুগীকে একদিন ICU তে রাখতে প্রচুর টাকা লাগে, আর এই কৃত্রিম সিরিজ দিয়ে কমপক্ষে ২৮/৩২ দিন একজন রোগীকে আটকানো খুবই ইজি।
জনস্বার্থে শেয়ার করুন।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

যেভাবে প্রতিকার পাওয়া যাবে অধিক মূল্য গ্রহণকারী অসাধু ব্যবসায়ীদের থেকে!


ন্যায় বিচার নিশ্চিত হল; টাকাও পেলাম।
আমি ও আমার এক বন্ধু এক স্বনামধন্য রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলাম। আমরা অনেক কিছুর সাথে ৫০০ মি.লি. মাম পানিও নিয়েছিলাম, বিল দেওয়ার সময় তারা ১৫ টাকার পানি ২০ টাকা রাখেন।
আমরা জিজ্ঞেস করায় তাদের উগ্রস্বরে উত্তর আসে। তাদের ওই ব্যবহার আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে। আমি বিলের কপি নিয়ে চলে আসি এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার এ অভিযোগ জানাই। ১০ দিনের মাথায় আমার অভিযোগের রিপ্লাই আসে এবং আমাকে শুনানীর জন্য ডাকা হয়।

আমি গেলাম, দুই পক্ষের কাছ থেকে শুনলেন এবং ভোক্তা অধিকার এর ৪০ নং ধারা অনুযায়ী ৫০,০০০/- টাকা জরিমানা হয়। রেস্টুরেন্ট এর লোক আমাকে অনুরোধ করেন যাতে আমি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেই। আমি তা করিনি এবং পরবর্তীতে অনুরোধে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় মাফ করে তা ৫,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়।
৪০ নং ধারা অনুযায়ী অভিযোগকারী জরিমানার ২৫% পাবেন। ৫,০০০/- টাকার ২৫% হিসাবে ১,২৫০/- আমি পেলাম। প্রাপ্তিস্বীকার ফর্ম এ সাইন করে টাকা নিয়ে আসলাম।

কীভাবে অভিযোগ করবেন?
অভিযোগ করার জন্য বিল বেশি রাখার রিসিট লাগবে।
Website (www.dncrp.gov.bd) এ গিয়ে অভিযোগ ফর্ম নামাতে হবে। হাতে পূরণ করে স্ক্যান বা সুন্দর করে ছবি তুলে, সাথে রিসিট এর ছবি ও প্রোডাক্ট এর গায়ে যেই দাম আছে সেটার ছবি তুলে, E-mail address (nccc@dncrp.gov.bd) এ পাঠাতে হবে।
দুই সপ্তাহের মধ্যে রিপ্লাই এ শুনানীর তারিখ দিবে।
তবে ড্রিংক্স যদি গ্লাসে করে দেয়, তাহলে বোতলের দাম প্রযোয্য হবেনা। সার্ভিস চার্জ যোগ হয়ে দাম বেড়ে যাবে, আপনি কিছুই করতে পারবেন না।

আর, যা করবেন বিল পাওয়ার এক মাসের মধ্যে করতে হবে।
এই লিংকে বিস্তারিত বলা আছে:
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহারে সচেতন হোন; জেনে নিন এটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ!


বর্তমানে তরুণ তরুণীরা তাদের রূপচর্চার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী সচেতন। আর নিজেদের চেহারা সুন্দর করতে যথাসাধ্য সবকিছু করেন তারা। বিখ্যাত সব কোম্পানির রং ফর্সাকারী ক্রিমের ব্যবহারের পেছনে তাদের ব্যয় হয় অনেক টাকা। কিন্তু কোন ক্রিম মেখে তাদের চেহারা এত সুন্দর হচ্ছে তা থাকে অজানা। আর কিসের কারণে চেহারা এত সাদা হয় তা কি ভেবেছেন কখনো?

বেশিরভাগ সময় টেলিভিশনে রং ফর্সাকারী ক্রিমের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে নিজে ব্যবহার করতে শুরু করেন সেসব ক্রিম। কিন্তু রং ফর্সাকারী ক্রিম কেনার আগে একবার ভাবুন কী কিনছেন? রং ফর্সাকারী ক্রিম নাকি ত্বকের ক্যান্সার!

হ্যাঁ, গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ রং ফর্সাকারী পণ্যে মারকিউরাস কোরাইডের (পারদযৌগ) মতো অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

সম্প্রতি ভারতের সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (সিএসই) পলিউশন মনিটরিং ল্যাবে পরীক্ষা করা সবকটি ফেয়ারনেস ক্রিমেই পারদ পাওয়া গেছে ৪৪ শতাংশেরও বেশি।

প্রাথমিকভাবে এইসব ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহারের ফলে সাময়িকভাবে ত্বকের রং কিছুটা ফর্সা হলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি মোটামুটি নিশ্চিত। ত্বকের জন্য ক্ষতিকর এই সকল রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহারকারীরা ভাবতে পারেন এই ক্রিম ব্যবহারের ফলে তাদের ত্বকের রঙে পরিবর্তন এসেছে। আগের চেয়ে একটু ফর্সা দেখা যাচ্ছে। আসলে তাদের ত্বক ফর্সা নয় ফ্যাকাসে দেখা যাচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রায় সব ফর্সা হওয়ার ক্রিমেই মেশানো থাকে পারদ। যার থেকে ত্বকের অ্যালার্জি, র্এ্যাশ এমনকি প্রাণঘাতী ক্যান্সারও হতে পারে।

অধিকাংশ রঙ ফর্সাকারী পণ্যে মারকিউরাস ক্লোরাইডের মতো অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মারকিউরাস ক্লোরাইড মূলত ব্লিচের কাজ করে, আর এটাই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ ধরনের ক্রিম নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক পাতলা হয়ে যায় ও টানটান ভাব হারায়। এতে ব্রণও সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও ফেয়ারনেস ক্রিম ত্বককে ফটোসেনসেটিভ বা আলোক সংবেদনশীল করে তোলে। তাই এ ধরনের ত্বকে সূর্যের রশ্মি তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলে এবং গুটি ও চুলকানি তৈরি হয়।

এছাড়া অনেক সংবেদনশীল ত্বকে অয়েল প্যাক, ফেশিয়াল কিংবা ম্যাসাজ করলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ফর্সা হওয়ার ক্রিম কিংবা লোশনে অতিরিক্ত পর্যায়ে মেশানো হচ্ছে স্টেরয়েড। আর তা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে ত্বক উজ্জল করতে চর্মরোগের শিকার হচ্ছেন বহু নারীই।

এখন ভাবার বিষয় হচ্ছে আপনি আপনার নিজের আসল ত্বক নিয়ে খুশি থাকবেন নাকি এসব ক্ষতিকর জিনিসের ব্যবহারে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনবেন।

তবে আপনি আপনার ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক নানা উপাদান ব্যবহার করতে পারেন যেগুলো আপনার ত্বকের পুষ্টি জুগিয়ে ত্বককে করবে আরও সুন্দর।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

Thursday, February 7, 2019

আপনি সেকলো কেনেন কি? জেনে নিন আসল 'সেকলো' চেনার উপায়!


আমরা কমবেশি সবাই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগি, আর এর থেকে বাঁচার জন্য স্কয়ার কোম্পানির সেকলো সবার প্রিয়, কিন্তু এই ঔষধেরও নকল করেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা; তাই কেনার আগে খেয়াল করে নিবেন। অাসল সেকলোতে লেখা কম থাকে ও অাড়াঅাড়ি থাকে অার নকল সেকলোতে লেখার পরিমাণ বেশি ও সিরিয়ালে থাকে। এই পোস্টটি শেয়ার দিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ দিন।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

Monday, February 4, 2019

এই মৌসুমের ফলে রাসায়নিক ও তা থেকে বাঁচার উপায়!


মধু মাস জৈষ্ঠ্য আসতে আরও দিন কয়েক বাকি। মধু মাস আসতে দেরি হলেও মধু মাসের ফল এসে গেছে বাজারে। কিন্তু সময়ের আগেই পাকানো এই ফলের বেশির ভাগেই আছে মধুর বদলে বিষ !

সময়ের আগেই ফল পাকিয়ে নেওয়া, রঙ আকর্ষণীয় করা আর অনেক দিন পঁচন থেকে রক্ষা করার জন্য এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ফলকে বিষাক্ত করে তুলছে। তাই ফল কেনা ও খাবার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার কেনা ফলগুলো নিরাপদ কিনা। কেনার সময় সৌন্দর্য না দেখে একটু সচেতন থাকেন, তাহলেই কিন্তু সম্ভব রাসায়নিকমুক্ত ফল চেনা।

কী করে চিনবেন রাসায়নিকমুক্ত ফল ?
প্রথমেই লক্ষ্য করুন যে ফলের গায়ে মাছি বসছে কি-না। ফরমালিনযুক্ত ফলে মাছি বসে না। তবে কিছু কিছু বিক্রেতা অনেক বেশি ধূর্ত। তারা ফলের গায়ে চিনির সিরার হালকা প্রলেপ দিয়ে রাখে। ফলে ফরমালিন থাকা সত্ত্বেও ফলের গায়ে মাছি বসে। তাই শুধু মাছি দেখেই নিশ্চিত হবেন না যে, ওই ফল বা আমে ফরমালিন নেই।
আম গাছে থাকা অবস্থায় বা গাছ পাকা হলে লক্ষ্য করে দেখবেন যে আমের শরীরে এক রকম সাদাটে ভাব থাকে। কিন্তু ফরমালিন বা অন্য রাসায়নিকে চুবানো আম হবে ঝকঝকে সুন্দর। কার্বাইড বা অন্য কিছু দিয়ে পাকানো আমের ত্বক হয় মোলায়েম ও দাগহীন। কেননা আমগুলো কাঁচা অবস্থাতেই পেড়ে ওষুধ দিয়ে পাকানো হয়। গাছপাকা আমের ত্বকে দাগ পড়বেই।
গাছপাকা আমের ত্বকের রঙে থাকবে ভিন্নতা। বোঁটার দিকে গাঢ় রঙ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কার্বাইড দেওয়া আমের আগাগোড়া হলদেটে হয়ে যায়, কখনো কখনো বেশি দেওয়া হলে সাদাটেও হয়ে যায়।
হিমসাগর ছাড়াও আরও নানান জাতের আম আছে যা পাকলেও সবুজ থাকে, কিন্তু অত্যন্ত মিষ্টি হয়। গাছপাকা হলে এইসব আমের ত্বকে বিচ্ছিরি দাগ পড়ে। ওষুধ দিয়ে পাকানো হলে আমের শরীর হয় মসৃণ ও সুন্দর।
আম নাকের কাছে নিয়ে ভালো করে গন্ধ অনুভব করুন। গাছপাকা হলে অবশ্যই বোঁটার কাছে ঘ্রাণ থাকবে। ওষুধ দেওয়া আম হলে কোনও গন্ধ থাকবে না, কিংবা রসুনের ঝাঁঝালো বাজে গন্ধ থাকবে।
আম মুখে দেওয়ার পর যদি দেখেন যে কোনও সৌরভ নেই, কিংবা আমে টক/ মিষ্টি কোনও স্বাদই নেই, বুঝবেন যে সে আমে ওষুধ দেওয়া।
আম কিনে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এমন কোথাও রাখুন যেখানে বাতাস চলাচল করে না। গাছপাকা আম হলে গন্ধে মৌ মৌ করবে চারপাশ। ওষুধ দেওয়া আমে এ মিষ্টি গন্ধ থাকবেই না।

লিচুর রঙ কাঁচা অবস্থায় হবে সবুজ, পেকে গেলে ইট রঙের। এখন গাছে থাকা অবস্থায় রাসায়নিক দেওয়ার কারনে তার রং হয়ে যায় ম্যাজেন্টা। এই ধরনের লিচু দেখতে ভালো দেখায়, কিন্তু খেতে নয়। তাই ম্যাজেন্টা রং এর লিচু কিনবেন না ।

স্বাভাবিক ফল পেকে যাওয়ার পর ফ্রিজে রাখা না হলে স্বভাবতই পঁচে যাওয়া শুরু করবে। কিন্তু ফরমালিন যুক্ত ফল ফ্রিজে না রাখলেও পঁচবে না।

অনেক সময় সচেতনতার অভাবে কিংবা উপায়হীন হয়ে রাসায়নিক মিশানো ফল আমাদের কিনতেই হয়।

আসুন জেনে নিই ফলকে কিছুটা রাসায়নিক মুক্ত করা যায় কিভাবে?
যে কোনো ধরনের রাসায়নিকই দেওয়া হোক না কেন খাওয়ার আগে ফলগুলো পানিতে ১ ঘন্টা বা তার চেয়ে কিছুটা বেশি সময় ডুবিয়ে রাখতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় ভিনেগার ও পানির মিশ্রণে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখলে। তাতে শতকরা ১০০ ফরমালিন নষ্ট হয়ে যায় ।

কার্বাইড ও ফরমালিনের ক্ষতিকর দিক:
অতিমাত্রায় কার্বাইড গ্রহণ করলে ফুসফুসে পানি জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড মুখ, গলা এবং কোমল ঝিল্লি পর্দায় প্রদাহ সৃষ্টি করে। এসব রাসায়নিক চোখের কর্ণিয়া ও রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। ফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তাৎক্ষণিকভাবে ফরমালিন,কার্বাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে পেটের পীড়া, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় করা, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, বমি,ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে।

ধীরে ধীরে এসব রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সব কিছুকে ধ্বংস করে দেয়। লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়। হার্টকে দুর্বল করে দেয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়। ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারে। এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারে। গর্ভবতী মেয়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

সরিষার তেলের শুদ্ধতা পরীক্ষা!



সরিষার তেল খাঁটি না ভেজাল পরীক্ষা করুন। অামরা যা খাচ্ছি তা অাসলেই কি খাঁটি? জানুন ও শেয়ার করুন।

পদ্ধতি: একটি স্টেইনলেস স্টিলের টেবিল চামচে অল্প একটু সরিষার তেল ঢেলে নিন এবং গ্যাসের চুলায় আগুন জ্বালিয়ে চামচটিকে সেই আগুনের উপর ধরে তাপ দিতে থাকুন এবং তাপ দিয়ে ফুটন্ত গরম করুন। ফুটন্ত গরম অবস্থায় যদি তেলটি তার রং হারিয়ে ফেলে নারিকেল তেলের মতো রং হয়ে যায় তাহলে সেই সরিষার তেল খাঁটি নয়, আর যদি রঙ্গের কোনো পরিবর্তন না হয়ে ফুটানোর পূর্বের মতোই রং থাকে তাহলে সেই সরিষার তেল খাঁটি ও ভেজালমুক্ত।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness